শিক্ষর্থীদের মুঠোফোন আসক্তিতে শঙ্কিত জাবিপ্রজা মহাপরিচালক
স্মার্টফোনে আসক্ত হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি অনুরক্ত সৃষ্টিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা বই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, স্মার্ট ফোনের বাটন টিপে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল্যবান সময় বিনষ্ট করছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি পিতামাতাকেও এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’
শুক্রবার (২১ জুলাই ২৩) চট্টগ্রামের রাউজানের হজরত ইয়াসীনশাহ হাইস্কুল ও কলেজে মাস্টার রুহুল আমীন চৌধুরী স্মারক বক্তৃতায় এই আহ্বান জানান তিনি।
মহাপরিচালক বলেছেন, “শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে এবং আচার আচরণে কঠোর নিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলা থাকতে হবে। এসব গুনাবলী ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় সমাজে শিক্ষকদের মান মর্যাদা কমে যাচ্ছে। শিক্ষকতা শুধু চাকুরী নয়, এটি মহৎ পেশা। শিক্ষকতা পেশাকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেখা অত্যন্ত গর্হিত। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নন, তিনি একজন শিক্ষার্থীর জন্য সারজীবনের পথ প্রদর্শক। বইয়ের বোঝা নিয়ে মুখস্ত করিয়ে জ্ঞান দানের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। ক্লাস নেওয়ার আগে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজ মাঠ, উন্মুক্ত প্রান্তর এবং খেলাধুলার সুযোগ সুবিধা অবশ্যই রাখতে হবে।
‘শিক্ষার্থীদের এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, তারা যেন খুব ভোরে ঘূম থেকে জাগ্রত হয়, নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং সত্য নিষ্ঠ জীবন অনুশীলন করে’-যোগ করেন তিনি।
‘শিক্ষকদের সময়মত ক্লাসে হাজির না হওয়া অনেক বড় অপরাধ’ উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী তাঁর পিতামহ চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ও ভুগোল বিদ্যার খ্যাতনামা শিক্ষক মাষ্টার রুহুল আমীন চৌধুরীর জীবনাদর্শন তুলে ধরে বলেন, “ তিনি একাধারে ৩৬ বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। মাষ্টার রুহুল আমিন শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ সেবক, সমাজ সংস্কারক এবং সমাজ সংগঠক। মাটির ঘরে, অতি সাদা সিধে জীবন যাপন করে, তিনি এখনো স্মরণীয় হয়ে আছেন।’
এমন নিষ্ঠাবান পুরুষের আদর্শ অনুসরণ করার জন্য তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। বলেছেন, শিক্ষকরা যেন জোর করে সম্মান আদায় না করেন, সততা ও নিষ্ঠা থাকলে শিক্ষকরা অবশ্যই সবার কাছ হতে সম্মান প্রাপ্য হবেন। শুধু বই পড়ানো নয়, একজন শিক্ষার্থীর আবেগ ও অনুভূতিকে উপলব্ধি করে তার আচরণগত উন্নয়ন ও চারিত্রিক পরিবর্তন করা একজন শিক্ষকের নৈতিক কর্তব্য।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষকসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনের প্রতিটি কার্যকলাপ মহান আল্লাহ্ তায়ালার রাডারে সর্বক্ষণ রেকর্ড হচ্ছে এবং মৃত্যুর পর প্রত্যেককে তার কর্মফল ভোগ করতে হবে। পদ, পদবি অর্থবিত্ত এবং আভিজাত্য সব হারিয়ে মানুষ একদিন কবরের অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবে। সেখানে তাঁকে তাঁর ভাল মন্দ প্রতিটি কাজের শাস্তি বা পুরস্কার ভোগ করতে হবে, এটি হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করলে মানুষ কোন অপরাধ করতে পারে না”।







